মাসিক বা পিরিয়ডের ব্যাথা এর লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা এবং প্রতিকার - Nadia24x7

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, January 12, 2021

মাসিক বা পিরিয়ডের ব্যাথা এর লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা এবং প্রতিকার


 

মাসিক বা পিরিয়ডের ব্যাথা পিরিয়ড এর অন্যতম কমন এবং বিরক্তিকর একটি অংশ। এই ব্যাথা পিরিয়ডের পূর্বে বা পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে হতে পারে। অনেকের মধ্যে এটি নিয়মিত দেখা যায়।

 

মাসিকের ব্যাথা সাধারণত তলপেট কিংবা পিঠে হয়। এ ব্যথা হালকা থেকে তীব্র হতে পারে। এটি সাধারনত একটি মেয়ের পিরিয়ড শুরু হওয়ার ১-২ বছরে প্রথম দেখা যায়। সময়ের সাথে সাথে এর তীব্রতা কমে আসে।

 

সাধারণত প্রথম সন্তানের জন্মের পর এটি পুরোপুরি চলে যায়। পিরিয়ডকালীন এই ব্যাথাকে dysmenorrhea বলে।

 

মাসিক বা পিরিয়ডের ব্যাথা এর লক্ষণ

  • পেটে চাপা ব্যাথা বা মাঝে মাঝে তীব্র ব্যাথা
  • পেটে চাপ চাপ অনুভূতি
  • কোমর এবং উরুর ভেতরের সাইডে ব্যথা

 

ব্যাথা তীব্র হলে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলোও দেখা যেতে পারেঃ

  • পেটে অস্বস্তি এবং বমি
  • পাতলা পায়খানা

 

পিরিয়ডের ব্যাথা কেন হয়

পিরিয়ড বা মাসিকের ব্যাথার মূল কারণ হচ্ছে জরায়ু অথবা গর্ভাশয় এর সংকোচন। পিরিয়ডের সময় যদি এগুলো বেশি সংকুচিত হয় তাহলে এটি আশপাশের রক্তনালীগুলোকে চাপ দেয়। এটি সাময়িকভাবে জরায়ুতে অক্সিজেন সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে। জরায়ুতে অক্সিজেনের অভাবে এই ব্যথা সৃষ্টি হয়।

 

পিরিয়ড বা মাসিকের ব্যাথার সময় করনীয়

মাসিক বা পিরিয়ডের ব্যাথা থেকে মুক্তির জন্য আপনি নিচের টিপসগুলো ফলো করতে পারেনঃ

  • অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ যেমন CARVA, SOLRIN অথবা প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন। ভালো ফলাফলের জন্য পিরিয়ড বা ব্যথা শুরু হওয়ার সাথে সাথে ঔষধ গ্রহণ করুন।
  • তলপেট বা কোমরের উপরে গরম পানির বোতল বা গরম পানির ব্যাগ রাখুন
  • গরম পানি দিয়ে গোসল করুন
  • প্রয়োজনে বিশ্রাম করুন
  • ক্যাফেইন এবং লবণযুক্ত খাবার পরিহার করুন
  • ধূমপান এবং মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন
  • তলপেট এবং কোমর মালিশ করুন

সেকেন্ডারি ডিজমেনোরিয়া (Secondary Dysmenorrhea)

ঋতুস্রাবজনিত কারণ ছাড়াও প্রজনন অঙ্গের সমস্যার কারণেও ব্যথা হতে পারে। একে সেকেন্ডারি ডিজমেনোরিয়া বলে। এর কারণগুলো হচ্ছেঃ

 

এন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis) এটি এমন অবস্থা যখন জরায়ুর ভিতর সাইডকে আচ্ছাদন করে রাখার টিস্যুগুলো জরায়ুর বাইরে পাওয়া যায়।

 

Pelvic Inflammatory Disease: এটি একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণ যা জরায়ুতে শুরু হয় এবং অন্যান্য প্রজনন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে।

 

Stenosis of Cervix: জরায়ু নিচের অংশ বা Cervix ক্ষতের কারণে বা মেনোপজের পরে এস্ট্রোজেন নামক হরমোনের অভাবে সরু হয়ে পড়ে তখন এই ব্যাথা হতে পারে।

 

টিউমারঃ জরায়ুর ভেতরের দেয়ালে টিউমার হলে

 

মাসিক বা পিরিয়ডের ব্যাথা প্রতিরোধ

পানি পানঃ প্রচুর পরিমাণ পানি পান মাসিকের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান করুন।

 

খাবারে সতর্কতাঃ চিনি, চর্বি এবং লবণযুক্ত খাবার পরিহার করুন। অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি খাবার যেমন চেরি, ব্লুবেরি, টমেটো, বোম্বাই মরিচ ইত্যাদি খাওয়া এসময় উপকারী। এছাড়াও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছ, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ বিভিন্ন বিচি, কাঠ বাদাম এবং সবুজ শাক পিরিয়ডের ব্যাথা কমাতে পারে। চিনি, পাউরুটি, পাস্তা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, বিস্কুট, অনিয়ন রিং, তামাক এবং ক্যাফেইন বর্জন করুন।

 

ক্যাফেইন বর্জনঃ ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার যেমন কফি, চা, কোল্ড ড্রিঙ্কস, চকলেট, এনার্জি ড্রিঙ্কস ইত্যাদি বর্জন করুন। আপনার নিয়মিত কফি পানের অভ্যাস থাকলে ক্যাফেইন উইথড্রালl সিনড্রোম থেকে বাঁচতে একবারে কফি বর্জন না করে ধীরে ধীরে খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনুন।

 

ঔষধ গ্রহনঃ তীব্র ব্যাথার জন্য আপনি ব্যাথার ঔষধ যেমন ibuprofen (PROFEN, REBUPROFEN, REUMAFEN ইত্যাদি ), Aspirin(SOLRIN, CARVA ইত্যাদি) অথবা naproxen sodium(NAPROX, NAXIN ইত্যাদি) গ্রহণ করতে পারেন যেগুলো আপনার ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ব্যথার এই সকল ওষুধ আপনার হাতের নাগালে রাখুন এবং ব্যথা হলে গ্রহণ করুন।

 

তাপ প্রয়োগঃ পিরিয়ডের ব্যাথার সময় হট ওয়াটার ব্যাগ বা গরম পানির বোতল তলপেটে রাখলে ব্যাথা কমে আরাম অনুভূত হতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, তলপেটে তাপ প্রয়োগ পিরিয়ডের ব্যাথা কমানোর ক্ষেত্রে ব্যাথার ওষুধের মতোই কাজ করে।

 

এক্সারসাইজ বা ব্যায়ামঃ ব্যায়াম অনেকেরই পিরিয়ডের ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে থাকে। পিরিয়ড বা মাসিকের ব্যাথা থেকে বাঁচতে নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো কিংবা সাঁতার কাটতে পারেন।

 

ম্যাসাজ বা মালিশঃ ম্যাসাজ বা মালিশ এর মাধ্যমে পিরিয়ডের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এটি শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ায় এবং ব্যথার উপশম করে।

 

আকুপাংচার এবং আকুপ্রেশারঃ আকুপ্রেশার হচ্ছে শরীরের বিভিন্ন অংশে চাপ প্রয়োগ করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা। আকুপাংচার হচ্ছে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সুই ফুটিয়ে চিকিৎসা করা। আকুপাংচার এবং আকুপ্রেশার পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

 

যথেষ্ট পরিমাণ ঘুমঃ প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণ ঘুম আপনার পিরিয়ডের ব্যাথা কমাতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে ,ইনসমনিয়ায় আক্রান্ত নারীদের মধ্যে পিরিয়ডের ব্যাথা সুস্থ নারীদের চেয়ে অনেক বেশি হয়।

 

গরম পানিতে গোসলঃ গরম পানিতে গোসল আপনার মাংসপেশীকে রিল্যাক্স করে মাসিকের ব্যাথা কমাতে পারে। পিরিয়ডের ব্যাথা হলে বাথটাবের গরম পানিতে রিল্যাক্স করুন অথবা গরম পানিতে গোসল করুন।

 

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলঃ মাসিকের ব্যাথা তীব্র হলে অনেক সময় চিকিৎসক আপনাকে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল গ্রহণ করার পরামর্শ দিতে পারেন। এটি আপনার পিরিয়ড নিয়ন্ত্রণ করে আপনার ব্যথা উপশম করতে পারে।

 

পিরিয়ড বা মাসিকের ব্যাথা অতি সাধারন একটি বিষয়। এর মুখোমুখি হলে অর্থহীন সংকোচ ঝেড়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহন করুন।

Post Bottom Ad