জীবনে ভর করেছিল একাকীত্ব, শান্তির খোঁজে ফের ছাদনাতলায় বসলেন বছর বাহাত্তরের বৃদ্ধ - Nadia24x7

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Thursday, August 13, 2020

জীবনে ভর করেছিল একাকীত্ব, শান্তির খোঁজে ফের ছাদনাতলায় বসলেন বছর বাহাত্তরের বৃদ্ধ

 

বয়সটা তো শুধুমাত্র একটি সংখ্যা, এর থেকে বেশি কিছু নয়, তা আবারো প্রমাণ হয়ে গেল বছর বাহাত্তরের এর সঙ্গে বছর ছত্রিশের গাঁটছড়ার মাধ্যম দিয়ে। তিনি সম্পর্কে বাঁধা পড়ে বিবাহ নয়,রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে দেখে শুনে দুজনেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন। গত সোমবার নিজের বাসগৃহে সামাজিক বিয়ে সারলেন বছর বাহাত্তরে শ্রীরামপুরের বড় বাগানের বাসিন্দা সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি ২২ বছর বিধানচন্দ্র কলেজ এ বাংলা পড়িয়েছেন। তারপর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বর্তমানে পূর্ব বর্ধমানের কালনায় বেসরকারি বিএড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি।

 

অনেক বছর আগেই মৃত্যু হয়েছে স্ত্রী এর। একমাত্র মেয়ে থাকে বিদেশে। ফলে একেবারে নিঃসঙ্গ জীবন কাটছিল তার। কয়েক মাস আগেই তিনি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেন। বিবাহের জন্য বিজ্ঞাপন দেবার সবথেকে প্রধান কারণ হলো তার নিঃসঙ্গতা। বিশেষ করে লকডাউনে তিনি প্রায় দুই দিন টানা খেতে পাননি। কোনরকমে হোম ডেলিভারি খাবার খেয়ে থাকতে হয়েছিল তাকে। এছাড়াও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে সবসময় চিন্তায় থাকতেন তিনি। এই সবকিছুর জন্যই তার মনে হয়েছে তার পাশে কাউকে পাওয়া প্রয়োজন, এর থেকে তার দ্বিতীয় বার বিবাহ করার সিদ্ধান্ত।

 

গত ২৭ শে জুলাই আইনে বিয়ে হয়েছিল তাদের।এরপর সোমবার নিজের ফ্ল্যাটে সামাজিক বিয়ে সেরে ফেলেন তিনি। এখানে তিনি নিয়ে এসেছেন নতুনত্বের ছোঁয়া, কবি মিনা রায় সংস্কৃত মন্ত্র পড়ে তাদের বিয়ে দেন।দ্বিতীয়বার বিয়ের সিদ্ধান্ত নেবার কারণ হিসেবে সমরেন্দ্র বাবু জানিয়েছেন,”বয়স বাড়ছে তাই আত্মনির্ভরতা কমে যাচ্ছে। লকডাউনে খুবই কষ্ট পেয়েছি খাবার জন্য। কাছের মানুষকে পাশে না পেলে কি হতে পারে তা আমি জানি। তাই এই দ্বিতীয় বার বিয়ের সিদ্ধান্ত”।

 

সদ্যবিবাহিতা ইরা রায়ের অবশ্য প্রথম থেকেই বিয়েতে আপত্তি ছিল। তিনি কোনদিন বিয়ে করবেন না বলেই মনস্থির করেছিলেন। কিন্তু পরিজনের জোরাজুরি করার পর তিনি শেষমেষ রাজি হয়েছেন বিয়ের জন্য। সেই অনুযায়ী সমরেন্দ্র বাবুর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধলেন তিনি। তবে সাত পাকে বাঁধা পড়ে নবদম্পতিকে বেশ সুখী লাগছিল।তবে এই বিবাহের পর স্বাভাবিকভাবেই সমাজের বাঁকা কথার সম্মুখীন হতে হয়েছে সমরেন্দ্র বাবুকে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, সমাজ এখনও একটু এগোয়নি।একটি স্বাধীন দেশে একজন স্বাধীন মানুষ কি করবেন আর কি করবেন না তা নিয়ে এখনও সকলে কেন মাতামাতি করেন তা বোঝা যায় না।

 

Post Bottom Ad