মাত্র ক্লাস থ্রি অবধি পড়েছেন এই ঘুগনি বিক্রেতা ! আর এনার ওপরই পি.এইচ.ডি করছেন পাঁচজন, জেনে নিন বিস্তারিত - Nadia24x7

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, July 21, 2020

মাত্র ক্লাস থ্রি অবধি পড়েছেন এই ঘুগনি বিক্রেতা ! আর এনার ওপরই পি.এইচ.ডি করছেন পাঁচজন, জেনে নিন বিস্তারিত


খুব কম বয়সেই ছোট বেলাতেই বাবার অকাল মৃত্যুতে পড়াশোনাতে বিচ্ছেদ ঘটেছিল, যে স্কুলে পড়তেন সেখানেই করতে তিনি রান্নার কাজ। তবে পরবর্তীকালে নিজের ঘুগনির দোকান খোলেন কিন্তু এর বাইরেও রয়েছে তার একটা পরিচয় তিনি একজন পদ্মশ্রী প্রাপক জনপ্রিয় একজন কবি। পাঠকদের মধ্যে অনেকেই হয়তো ছবি দেখে বুঝতে পেরেছেন আজকে আমরা কার কথা বলতে চলেছি তবে যারা বুঝতে পারেনি তাদের উদ্দেশ্যে বলে রাখি ইনি হলেন হলেন হলধর নাগ (Haladhar Nag)। যার জীবন সংগ্রামের কাহিনী সকলকে অনুপ্রাণিত করবে।

 

একদম সাদামাটা জীবন যাপন করতে ইচ্ছুক এই ব্যাক্তিটির পরনে রয়েছে সাদা ধুতি ও কুর্তা। পিঠ পর্যন্ত রয়েছে লম্বা তেলজবজবে চুল, পায়ে নেই জুতো পর্যন্ত। তাই এরকম চেহারা নিয়ে এই ঘুগনি বিক্রেতা স্বাভাবিকভাবেই কারোও নজর কাড়ে না তবে ঝুলিতে যে রয়েছে পদ্মশ্রী সম্মান, আর তিনি একজন জনপ্রিয় কবি হিসাবে পরিচিত। তিনি যেভাবে জীবন সংগ্রামে জয়ী হয়েছেন তা সকলেরই জানা উচিত কারণ এরকম ঘটনা প্রায়ই খুব কমই দেখতে পাওয়া যায়। যখন তিনি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়তেন তখন তার বাবা মারা যান।

 

আর্থিক অভাবে পড়াশোনা লাটে উঠে তার আর তার পরই তিনি একটি মিষ্টির দোকানে বাসন ধোয়া রাস্তায় রাস্তায় ঘুগনি বিক্রি করে নিজের জীবন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তবে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা এই ব্যক্তির উপর ছিল মা সরস্বতীর আশীর্বাদ যার দরুন তিনি কলম ধরেছেন তা হাত থেকে ঝরে পড়েছে সাহিত্যের মনি মুক্তা। “কোসলি” ভাষায় ছোটবেলা থেকেই তিনি ছোট গল্প লেখা শুরু করেন আর তারপর একটু বড় হয়ে তিনি কবিতা চর্চাও শুরু করেন। 1990 সালে তার প্রথম কবিতা এক পত্রিকায় প্রকাশিত হয় যে কবিতাটির নাম ছিল “ধোদো বরগাছ”।

 

এটি খুবই সাফল্য লাভ করে আর তারপরই তিনি আরো 4 টা কবিতা পাঠান এই পত্রিকায় পর পর একের পর এক প্রকাশিত হতে থাকে তার কবিতা। যদিও তারপরে আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি একের পর এক লেখার মাধ্যমে তিনি প্রশংসা কুড়িয়ে নিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। এমন কী সাহিত্য সমালোচকদের মধ্যেও তিনি খুবই প্রশংসিত হয়েছিলেন।অন্যদিকে সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয় তরফ থেকে তার সমস্ত কবিতা গুলিকে একত্রিত করে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে যার নাম দেওয়া হয়েছে “হলধর গ্রন্থাবলী”।

 

এই মুহূর্তে চলছে এই বইটির দ্বিতীয় পর্বের প্রস্তুতি। তিনি 2016 সালে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের হাত থেকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন। আর 2019 সালে তিনি সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয় এর তরফ থেকে সাম্মানিক ডক্টরেট উপাধি পান। তবে এত উচ্চতার শিখরে পৌঁছে যাবার পরও তিনি আগের মতনই অনাড়ম্বরতে জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত রয়েছেন। শুধু তাই নয় ইতিমধ্যে তার লেখাগুলিকে নিয়ে পাঁচজন গবেষণাও করছেন।


Post Top Ad