আমরা আরও সংঘর্ষ দেখতে চাই না, নীরবতা ভেঙে বলল বেজিং - Nadia24x7

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, June 18, 2020

আমরা আরও সংঘর্ষ দেখতে চাই না, নীরবতা ভেঙে বলল বেজিং


পূর্ব লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় সাঙ্ঘাতিক সীমান্ত সংঘর্ষে পিপল'স লিবারেশন আর্মি (People’s Liberation Army)-র কত জন জওয়ান শহিদ হয়েছেন, তা নিয়ে নীরবতা বজায় রাখল চিন। দু-দেশের মধ্যেকার চরম উত্তেজনার মধ্যে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের ফোনে কথা হয়। সেসময় চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ানও সেখানে ছিলেন। কিন্তু, সংঘর্ষে PLA-এর কত জওয়ান নিহত হয়েছেন, সে প্রসঙ্গে অদ্ভুত ভাবে নিশ্চুপ থাকে চিন।

পূর্ব লাদাখের সংঘাত নিয়ে কোনও বিশদ তথ্য দিতে প্রথম থেকেই অস্বীকার করেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান। যত বারই তা জানতে চাওয়া হয়েছে, সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকী চিনাসেনার হতাহতের বিষয়টিও তিনি এড়িয়ে যান। সাংবাদিকরাও এ নিয়ে প্রশ্ন করলে লিজিয়ান বারবার বলেন, উভয় দেশের সীমান্ত সেনারা এই বিষয়টি নিয়ে স্থলভাগে কাজ করছেন। হতাহতের কোনও তথ্য পরিসংখ্যান আমার কাছে নেই।

ঝাও আরও বলেন, চিন ও ভারত উভয়েই বিষয়টির নিষ্পত্তিতে যোগযোগ রেখে চলেছে। কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে আলোচনা চলছে। এর পরেই তিনি যোগ করেন, 'চিন আরও সংঘর্ষ দেখতে চায় না।' বেজিংয়ের এক দক্ষিণ-এশীয় বিশেষজ্ঞ হু শিশেংয়ের ধারণা, হতে পারে চিন এ নিয়ে নিজের দেশে বেশি হইচই চাইছে না। তাই নীরবতা বজায় রেখে চলেছে। গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকের বক্তব্য, দু-দেশে সেনার মৃত্যু নিয়ে তুলনা হোক, এটা বেজিং চাইছে না। যে কারণে পিএলএ'র হতাহত নিয়ে চুপ রয়েছে। এটা বেজিংয়ের তরফে সদিচ্ছা।


তবে, চিন কিছু না বললেও মার্কিন মিডিয়ায় গোয়েন্দা সূত্রের উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, ১৫ জুনের ভারত-চিন সংঘর্ষে PLA-এর ৩৫ জওয়ান নিহত হয়েছেন। প্রকাশনা সংস্থা ইউএস নিউজ সূত্রে খবর, ভারতের হাতে গলওয়ান উপত্যকায় বড় সংখ্যক সেনার প্রাণহানিকে চিনের কাছে অপমানজনক ঠেকেছে। যে কারণে বেজিং হতাহতের সংখ্যা ঘোষণা করতে অনিচ্ছুক। কারণ, বেজিংয়ের ধারণা, চিনের 'শত্রু'রা এতে আরও উত্‍‌সাহিত হয়ে পড়বে। তাই ঘটনার দু-দিন পরেও পূর্ব লাদাখে চিনের তরফে হতাহত নিয়ে কোনও বিবৃতি বেজিং দেয়নি।



মার্কিন গোয়েন্দাদের রিপোর্টেও গুলি চলার কথা বলা হয়নি। ভারতীয় বাহিনী ও চিনাসেনার তরফেও গুলিচলার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। মার্কিন গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, লাঠি, ছুরির আঘাত ছাড়াও দু-পক্ষের অনেক জওয়ান মারা গিয়েছেন খাড়া থেকে পড়ে গিয়ে। কাঁটাতার জড়ানো এক ধরনের ব্যাটন যে চিনাসেনারা ব্যবহার করেছিল, ইতিমধ্যে তা সামনে এসেছে। ১৫ জুন, সোমবার রাতে ঘটনার সূত্রপাত। পূর্ব লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দু-পক্ষের সেনারা। ভারতীয় সেনাকে লক্ষ্য করে প্রথমে পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। যা থেকে ঘটনা বড় আকার নেয়। এই ঘটনার জন্য চিনের আগ্রাসী মনোভাবকেই ভারতের তরফে দোষারোপ করা হয়েছে।

Post Top Ad