সুশান্তের মত আমিও আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম, বললেন এই অভিনেত্রী - Nadia24x7

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, June 16, 2020

সুশান্তের মত আমিও আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম, বললেন এই অভিনেত্রী


বলিউডের চলচ্চিত্র জগতের ভেতরটা যে কতটা অন্ধকার হতে পারে তা আজ এক তরুণ অভিনেতার মৃত্যু আমাদের জানিয়ে গেল। দিনের পর দিন লড়াই করেও জিতের জিততে না পেরে না ফেরার দেশে চলে গেল সুশান্ত সিং রাজপুত। টানা একদিন পার হয়ে গেলেও এখনো চোখের সামনে ভেসে উঠছে তার হাসিমাখা মুখটা। এই হয়তো কেউ এসে বলবে সব খবরই মিথ্যে। সুশান্তর মতো আরও একজন এই কষ্টের মধ্যে দিয়ে চলছেন, যিনি আজ প্রচন্ড ভাবে এই দুর্ঘটনায় নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন। তিনি আর কেউ না পার্নো মিত্র।

 

সুশান্তর কথা উঠতে তিনি তার কিছু ব্যক্তিগত কথা শেয়ার করলেন সংবাদ মাধ্যমের দ্বারা। তিনি বলছেন, “হ্যাঁ আমিও আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম। আমি একজন অভিনেতা এবং আমিও একজন তরুণ”। তিনি বলেছেন, “যখন বেঁচে থাকার সব দরজা গুলো বন্ধ হয়ে যায়, শেষ আশা ও যখন নিভে যায়, মানুষ তখনই এমন পদক্ষেপ নিতে পারে। আমিও নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলাম, আমি এখন ওষুধ খেয়ে চলেছি। আমি জানি এই নরক যন্ত্রণার কথা। কথাগুলো বলতে বলতে আমার গলা বুজে আসছে”।

 

“সুশান্তের কষ্ট আমি উপলব্ধি করতে পারছি। আমিও বিশ্বাস করতাম সুইসাইডের উপায় জানার জন্য । কিন্তু অনেকগুলো মুখ আমার দিকে তাকিয়ে আছে বলে আমাকে কাজ করে যেতে হয়েছে, তাই আমি আজ রাতে তার থেকে সমস্ত কষ্ট সহ্য করে কাজ করে যাচ্ছি। এই যন্ত্রণা মুখে প্রকাশ করা যায় না। এই যন্ত্রণাকে উপলব্ধি করতে হয় মনের গভীর থেকে”।

 

কেন তার যন্ত্রণা? কেনই বা তিনি এই পথ বেছে নিতে চেয়েছিলেন? এর উত্তরে তিনি জানান, “আমার বাবা ছিলেন হোমিওপ্যাথি ডাক্তার। তার কাছে বহু মানুষ আসতো বিভিন্ন রোগ নিয়ে। তারা বলত,”যে ডাক্তার বউ আমার শরীরে খুব কষ্ট। মনে খুব কষ্ট। তাই বলে ভাববেন না আমি পাগল। আমাকে ভালো করে দিন তাড়াতাড়ি”। এদিকে আমার মামা কিন্তু মানসিক অবসাদের রোগী ছিলেন”।

 

“আমি ছিলাম আমার বাবা অন্তপ্রাণ। অনেক ভাবিনি বাবা ছাড়া বাঁচবো। যখন বাবা ছেড়ে চলে গেল তখন আমি দিশেহারা হয়ে পড়লাম। যে মানুষটা ছাড়া আমি কিছুই করতে পারতাম না,সেই মানুষটাকে ছাড়া আমি কি করে বাঁচবো এই চিন্তা আমায় কুরে কুরে খেতে। তার সঙ্গে জুড়ে গেল নানান ব্যক্তিগত সমস্যা। বারবার মনে হতো আমি ওয়ার্থলেস আমার বেঁচে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই”। “হ্যাঁ তখন বারবার এই কথাটাই মনে হতো যে আমি ওয়ার্থলেস। এই অবস্থা যখন চলতে থাকে তখন মাথায় কিছুই থাকেনা। আমি কত সুন্দরী,আমার কত নামডাক, আমার কত খ্যাতি, আমার কত টাকা পয়সা এই সবকিছুই মাথা থেকে মুছে যায়।

 

ক্লান্তিতে ভরা একটা জীবন যেন মনে হয় বারবার সবকিছু শেষ করে সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে পালিয়ে যাই”। “এই এলোমেলো মানুষগুলোকে বাইরে থেকে দেখলে কিছুই বোঝা যায় না। তারা বাইরে থেকে যতটা শান্ত ভেতর থেকে ঠিক ততটাই অশান্ত। সুশান্তর ক্ষেত্রেও ঠিক একই কথা আমার মাথায় এসেছে। তাকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না তার ভেতর কি মানসিক অশান্তি চলছে”।

 

“গত দেড় বছর ধরে আমি এই অবসাদে ভুগছি।তখন আমি আমার কাছের মানুষগুলোকে পাশে পেয়ে ছিলাম বলে আজ ভালো আছি।মানসিক অবসাদ কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গেলে কেটে যায় না, এটি একটি অসুখ হলে ডাক্তার বা থেরাপিস্ট এর কাছে যেতেই হয়। আছে সেগুলি সময়ের সাথে সাথে ঠিক হয়ে যায়। আজ আমি অনেকটাই সুস্থ। তাই বারবার বলছি মানসিক অবসাদে ভূগোলে লজ্জা না পেয়ে ডাক্তারের কাছে যান”।

 

“আমার ম্যানেজার যে আমার খুব ভালো বন্ধু হবো ঠিক সে আমাকে বলে যে তুমি এত প্রানবন্ত এত আড্ডা মারো তাও তুমি ডাক্তারের কাছে কেন যাও? তাকে কি করে বোঝাই মানসিক অশান্তির কথা মনে থেকে যায়। সবাইকে তা বলা যায় না। মন খারাপ বা মানসিক অবসাদ কিন্তু এক নয়। অচেনা যে কোন মানুষকে মানসিক অবসাদের কথা বলা যায়না। তাই যেতে হয় থেরাপিস্টের কাছে। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ট্রেন্ড চলছে আমাকে মনের কথা বল আমি শুনব। সত্যি কি সবাইকে সবকিছু বলা যায়? আমি এই বক্তব্যকে সাপোর্ট করতে পারলাম না। এটা শুধু জোয়ারে গা ভাসানো ছাড়া কিছুই না।

 

সুশান্তর মতো আরো যারা মানসিক অবসাদে ভোগেন তাদের সেই অবস্থা থেকে নিজেকে টেনে বার করে আনতে হবে। নিজের জন্য না হলেও পরিবারের জন্য, নিজের কাজের জন্য এবং আরও লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য যারা এখন মানসিক অবসাদে ভুগছে। বারবার দেখিয়ে দিতে হবে এভাবে ও ফিরে আসা যায়।”

Post Bottom Ad