এই গ্রামে পুরুষদের সাহায্য না নিয়েই মা হন মেয়েরা! জানেন? - Nadia24x7

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Thursday, June 18, 2020

এই গ্রামে পুরুষদের সাহায্য না নিয়েই মা হন মেয়েরা! জানেন?


দক্ষিণ কেনিয়ার একটি ছোট জনপদ হল উমোজা। ২৭ বছর ধরে এখানে শুধু মেয়েদের বাস। কাঁটাতারে ঘেরা এই গ্রামে ছেলেদের প্রবেশ নিষেধ। কেন? তাহলে ফিরে যেতে হবে ১৯৯০ সালে। সেই সময় ব্রিটিশদের হাতে গণধর্ষণের শিকার হন এখানকার ১৫ জন মহিলা। এরপর তাঁরা ঠিক করেন গ্রামের একপ্রান্তে নিজেদের মতো জনপদ তৈরি করে তাঁরা থাকবেন। কোনও রকম পুরুষের প্রবেশ নিষেধ। সেই ১৫ থেকে আজ সংখ্যাটা এসে দাঁড়িয়েছে ২৫০ জনে। অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়া, গার্হস্থ্য হিংসা আর নির্যাতনে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া কিংবা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এমন মহিলাদের ঠাঁই হয়েছে এই গ্রামে। মহিলারা মনে করেন তাঁদের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় এই গ্রাম। আর অসহায় মেয়েদের জন্য এই গ্রামের দরজা সবসময় খুলে রেখেছেন বাকি মেয়েরা।

শুধু মেয়েরাই নন, তাঁদের সন্তানরাও রয়েছেন সঙ্গে। এবার প্রশ্ন হল যে গ্রামে পুরুষের প্রবেশ নিষেধ সেখানে মেয়েরা কীভাবে পুরুষের সাহায্য ছাড়াই সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন। গ্রামে যেহেতু পুরুষের প্রবেশ নিষেধ তাই পছন্দের পুরুষের সঙ্গে যৌনমিলনের জন্য রাতের বেলা অন্য গ্রামে যান মেয়েরা। তবে বাইরের কোনও অতিথির সঙ্গে যৌনমিলন করতে পারবেন না মেয়েরা এমনও নিয়ম রয়েছে। মেয়েরা তাঁদের গ্রাম সাম্বুরুতে নিজেরাই গড়ে তুলেছেন স্কুল, কালচারাল সেন্টার এবং সাম্বুরু ন্যাশনাল পার্ক।

তাঁদের নিজস্ব একটি ওয়েবসাইটও রয়েছে। নিজেরা গয়না এবং ঘরসাজানোর নানা দ্রব্য বানিয়ে তা যেমন অনলাইনে বিক্রি করেন তেমনই পর্যটকদের কাছেও বিক্রি করেন। বহু পর্যটক আসেন এই গ্রাম ঘুরতে। তাঁদের জঙ্গলসাফারি, মিউজিয়াম ঘুরে দেখানোর দায়িত্বও থাকে মহিলাদের হাতে। আসার আগে অনলাইনে বুকিং করতে হয়। উমোজায় প্রবেশের আগেই সেই টিকিট এবং প্রবেশমূল্য জমা দিলে তবেই মেলে গ্রামে ঢোকার ছাড়পত্র। সেই সঙ্গে তাঁদের প্রাথমিক বিদ্যালয়, জীবনযাত্রা আর সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচয় করান মহিলারা। উমোজায় মেয়েদের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। নিজেদের মত করে রাজত্ব তাঁরা গড়ে নিয়েছেন। আর সকলেই খুশি এমন সুন্দরভাবে জীবন উপভোগ করতে পেরে। সেই সঙ্গে হিংসা নামক শব্দটিকেও তাঁরা ভুলতে পেরেছেন জীবন থেকে।

Post Bottom Ad