রামনবমী মেলায় ভেঙে গেল লকডাউন - Nadia24x7

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Saturday, April 4, 2020

রামনবমী মেলায় ভেঙে গেল লকডাউন



ধর্মের কাছে ফের হার মানল বিজ্ঞান। দিল্লির নিজামুদ্দিন থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের রঘুনাথপুর। কোথাও জলসা, কোথাও মেলা। বিজ্ঞানভিত্তিক লকডাউনের তোয়াক্কা করা হয়নি কোথাও। লকডাউনের মধ্যেও থেমে থাকল না বালুরঘাটে রামনবমীর পুজো।

বালুরঘাটের রঘুনাথপুর এলাকার ওই মন্দিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই চলল ভক্তদের ভোগদান দোকানে কেনাকাটা। করোনা রুখতে সামাজিক দূরত্ব বজার রাখার বিধিনিষেধকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভিড় উপচে পড়ল মানুষের। এমনকি পার্শ্ববর্তী আত্রেয়ী নদীতে জোট বেঁধে স্নান করে বিগত বছরগুলোর মতোই রীতি পালন করেন ভক্তরা। বিষয়টি নজরে আসতেই ঘটনাস্থলে যান ডিএসপি সদর ধীমান মিত্র। পুজো কমিটির সঙ্গে তিনি আলোচনা করেন। মন্দির কর্তৃপক্ষকে ভিড় বেশি না করার জন্য অনুরোধ করেন। পুজো বন্ধ না করলেও যাঁরা পুজো দিতে আসবেন এবং দোকানে পুজোর সামগ্রী কিনবেন সেক্ষেত্রে যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য পুজো কমিটির তরফে গোল দাগ কেটে দেওয়ার কথা বলেন ধীমানবাবু। যদিও কেন প্রশাসন পুজোর অনুমতি দিল, তা নিয়ে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন।

প্রত্যেক বছর বালুরঘাট শহরের রঘুনাথপুর এলাকায় রামনবমীর পুজো মেলা অনুষ্ঠিত হয়। পুজো উপলক্ষ্যে মন্দির প্রাঙ্গণে আসা পুণ্যার্থীরা নদীতে স্নান করে মন্দিরে পুজো দেন। দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থীদের সমাগম হয় রঘুনাথপুরের রামনবমীর মেলায়। তবে এবার করোনা মোকাবিলার জন্য চলছে লকডাউন। নতুন করে আর যাতে করোনার প্রকোপ দেখা না দেয়, তার জন্য সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। লকডাউনের জন্য বিভিন্ন সামাজিক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পিছিয়ে বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বালুরঘাটবাসীর একাংশের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশিকাকে একপ্রকার উপেক্ষা করেই বালুরঘাটের রঘুনাথপুর এলাকায় রামনবমীর পুজো মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত সমাগম হচ্ছে। তবে অন্যান্যবারের মতো এবারের রঘুনাথপুরের রামনবমীর মেলায় তেমন ভিড় নেই। দোকানপাটও সেই হারে বসেনি। সকালের দিকে ভিড় কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের ভিড় অনেকটাই বেড়ে যায়।

বিষয়টি নজরে আসতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুজো উদ্যোক্তাদের সতর্ক করেন ডিএসপি সদর ধীমান মিত্র। অন্যদিকে, স্থানীয় আধিকারিকদের কাছ থেকে এই পুজোর বিষয়ে রিপোর্ট তলব করে জেলা প্রশাসন। গোটা দেশে যখন লকডাউনের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাতিল করা হচ্ছে। তখন বালুরঘাটের রামনবমীর মেলাকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সাধারণ মানুষের সচেতনতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। মেলায় পুজো দিতে আসা ঝর্ণা সরকার জানান, এই মুহূর্তে করোনা থেকে বাঁচাতে পারেন স্বযং ঈশ্বর। আজ সকালে জানতে পারি রামনবমী বা রঘুনাথের পুজো মেলা হবে। তাই আমি পুজো দিতে এসেছি। করোনা ভাইরাস থেকে গোটা পৃথিবী যাতে মুক্ত হয়, তার জন্য পুজো দিয়ে মানত করেছি।
তবে এবারের পুজোয় অন্যবারের মতো ভিড় নেই। করোনাকে হারাতে লকডাউন যেমন মানতে হবে, তেমনি এই বিপদের দিনে ভগবানকেও ডাকতে হবে বলে তিনি জানান।

যাদিও এবিষয়ে পুজো কমিটির তরফে ভোলানাথ সিং জানান, আমরা পুলিশ-প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে পুজো করেছি। তবে এবার শুধু পুজোটাই করা হচ্ছে। কোনওরকম মেলার আয়োজন করা হয়নি। সকাল থেকে বেশ কয়েকবার পুলিশ এবং ডিএসপি সদর ধীমান মিত্র এসেছিলেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই পুজো চলছে। তিনি তা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। গুটিকয়েক ভক্ত এসে ভোগ দিয়েছেন। পুজোমণ্ডপের পাশে কয়েকটি দোকান বসেছিল। তাদেরকেও বেলা বারোটার পর পুজো কমিটির তরফে উঠে যেতে বলা হয়েছে।

বিষয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক প্রণবকুমার ঘোষ জানান, জনগণকে লকডাউনে সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলার আবেদন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা খুবই জরুরি। রঘুনাথপুরের মেলার বিষয়টি স্থানীয় আধিকারিকদের কাছ থেকে জানতে চেয়েছি। সেখানে যাতে ভিড় না করে নিয়ম মেনে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখে পুজো দেওয়া হয়, তা প্রশাসনিকভাবে দেখা হবে।

Post Bottom Ad