Monday, April 6, 2020

‘‌রিলায়েন্সের কর্মীরাও দেশের করোনা যুদ্ধে প্রথম সারির যোদ্ধা’‌, বললেন মুকেশ আম্বানি


তাঁর সংস্থার হাজার হাজার কর্মী এই লকডাউনের মাঝেও দেশের একাধিক দরকারি পরিষেবা দিয়ে চলেছেন। টেলিকম পরিষেবা থেকে জ্বালানি, সব কিছুই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। আর সেই কারণেই রিলায়েন্সের কর্মীদের করোনার বিরুদ্ধে ভারতের যুদ্ধে প্রথম সারির যোদ্ধা বললেন সংস্থার কর্ণধার মুকেশ আম্বানি।

দু’‌লক্ষের বেশি কর্মীর কাছে পাঠানো মেইলারে দেশের ধনীতম মানুষটি জানিয়েছেন, তিনি প্রতক্ষ্য করছেন কীভাবে তাঁর সংস্থার কর্মীরা নিজেদের কর্তব্য পালনে অত্যাধিক সচেতন থাকছেন। আর এই লড়াই সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য লড়াই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

তিন সপ্তাহের লক ডাউনের ফলে দেশের বেশিরভাগ মানুষ এখন গৃহবন্দী। এর মধ্যেও যাতে দেশের প্রায় ৪০ কোটি মানুষ ফোনে বিনাবাধায় কথা বলতে পারেন ইন্টারনেট সার্ভিস পান, তার ব্যবস্থা করেছে জিও। রিলায়েন্স লাইফ সায়েন্স ভারতে কোভিড পরীক্ষার উন্নতিতে সমান ভাবে কাজ করে চলেছে। এছাড়া, Sir H N Reliance Foundation Hospital মাত্র ১০ দিনে একটি ১০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরি করেছে শুধু মাত্র করোনা চিকিৎসার জন্য।

এছাড়া, রিলায়েন্সের রিফাইনারিগুলিও সমান তালে কাজ করে চলেছে উৎপাদন বজায় রেখেছে। যেগুলির মধ্যে কয়েকটি জিনিস ব্যবহৃত হচ্ছে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্যাকেজিং সরঞ্জাম তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়।
এছাড়াও রিলায়েন্সের কর্মীদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে খেয়াল রাখার জন্য একটি অন্তর্বর্তী সিমটম চেকার চালু করেছে সংস্থা। যেখানে কর্মী তার পরিবারের রোগ নির্ণয় চিকিৎসা বিষযক সাহায্য পাওয়া যাবে। এছাড়াও রিলায়েন্স লাইফ সায়েন্সের টেস্টিং কিটও খুব তাড়াতাড়ি পাওয়া যাবে। তিনি ঘোষণা করেছেন মাই ভয়েস প্লাটফর্ম চালু হবে, যেখানে কর্মীরা নিজেদের মত বিনিময় করতে পারবেন।

‘‌এই সমস্ত বিষয়ে সাহায্য করাই রিলায়েন্সের বর্তমান কাজ। এছাড়াও কাজ, ইঞ্জিনিয়ারিং, নির্মাণ, কর্পোরেট সার্ভিস, মানব সম্পদ, বাণিজ্যিক কাজকর্মের জন্য আর্থিক, বাণিজ্যিক নিরাপত্তা দিয়ে সাহায্য করা’,‌ বলেন তিনি। এছাড়া উল্লেখ করেন, প্রতিটি কর্মী এই কঠিন সময়েই রিলায়েন্সের উন্নতিকল্পে নিজের কাজটুকু করে চলেছেন।

‘‌‌আমার মনে হয় আমার সংস্থার প্রত্যেক কর্মীকেই করোনার বিরুদ্ধে প্রথম সারির যোদ্ধা হিসাবে উল্লেখ করা যায়। তাই আপনাদের সবার সংস্থার প্রতি দেশের প্রতি দায়বদ্ধতাকে আমি সাধুবাদ জানাই, বলেন তিনি।’‌ তিনি মনে করেন, এখনও পর্যন্ত সংস্থা যথাসাধ্য চেষ্টা করে চলেছে, কিন্তু এখনই শেষ নয়। যতদিন না ভারত করোনা মুক্ত হচ্ছে, ততদিন এই লড়াই চলবে। তিনি এও বলেন, করোনার বিরুদ্ধে রিলায়েন্সের ভূমিকাকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও সাধুবাদ জানিয়েছেন। আর রিলায়েন্স পরিবারে ওপর তাঁর এই বিশ্বাসের মর্যাদা আমাদের রাখতেই হবে।

তিনি বলেছেন, ‘‌আমাদের ওপর বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে কারণ, আমাদের কাজেক প্রতিটি শাখাই দেশের অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার আওতায় পড়ছে। আর এই লড়াইয়ে রিলায়েন্সের মন্ত্র‘‌#CoronaHaaregaIndiaJeetega’‌, কিন্তু তাঁর খেয়াল আছে রিলায়েন্স কর্মী তাঁদের পরিবারে দিকে।
তিনি এদিন সংস্থার কর্মীদের সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং বজায় রাখার কথা মনে করিয়ে দেন। নিয়মিত রিলায়েন্সের সিমটম চেকারে নিজের পরিবারে স্বাস্থ্য খেয়াল রাখার কাজটিও করতে বলেন।

সিমটম চেকার একটি এন্ড টু এন্ড COVID-19 প্লাটফর্ম যেটি কর্মীদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সেল্ফ মোনিটারিং পদ্ধতিতে খেয়াল রাখবে, এছাড়া কোনও মেডিক্যাল ইমার্জেন্সিতেও দ্রুত পদক্ষেপ করতে সাহায্য করবে।
এটি রিলায়েন্সের সমস্ত কর্মী তাঁর পরিবারের জন্য রয়েছে। এরপর মুম্বই ভারতের আরও বৃহত্তর অংশের কাছে এটি পৌঁছে যাবে। তিনি ঘোষণা করেছেন, রিলায়েন্স লাইফ সায়েন্স একটি COVID-19 পরীক্ষার কিট তৈরি করেছে, যা বিশেষ ভাবে সংস্থার কর্মীদের দেওয়া হবে, পাশাপাশি পরে সবার হাতেও এটি পৌঁছে দেওয়া হবে।

‘‌আমার মনে হয়, আমরা সবাই একটি বৃহত্তর রিলায়েন্স পরিবার হিসাবে এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠব এবং নিরাপদে, সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে নতুন দিনে পৌঁছে যাবো’‌, বলেছেন মুকেশ আম্বানি।

SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.